ফেলুদা শুধু তোমার জন্যে
[ সুবল সরদার ]
ফাগুন মাস যেদিন অর্পণা গেল, অপু শোকে পাথর। জীবনে প্রেম একবার এসেছিল। এ পৃথিবী তাকে একবার পায়। তুমি অর্পণাকে পাওনি। আমি কি দুর্গাকে পেয়েছি? তোমার মতো তার বিরহে আমি চিরবিরহী। দুর্গা যদি বেঁচে থাকত! আমি তার সঙ্গে প্রেম করতাম। তার জন্যে বিরহী হতাম। একরাশ চোখের জল ফেলতাম। তারপর জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হতাম। সে যদি বেঁচে থাকত, বলতাম আমাকে ছেড়ে তুমি কোথাও যেতে পারো না। তাকে খুব করে আদর করে বলতাম, তুমি আমার চিরদিনের।

বনভোজনের সময় খেতে খেতে হঠাৎ তোমার বন্ধুকে বললে — আমার বিয়ে হবে না — কেন! তুমি জানো না তোমার জন্যে আমি অপেক্ষা করছি। জন্মের ওপার থেকে জন্মান্তর ধরে তোমার জন্যে অপেক্ষা করব।
তুমি জ্বর থেকে সেরে ওঠো। আর কোনোদিন কালবৈশাখীর ঝড়-বাদলে আম কুড়োতে যাবে না। জ্বর থেকে সেরে উঠলে ট্রেনে করে দূরে তোমাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাব। ট্রেন চড়া খুব মজা। একটুও ভয় করে না। যাবে না? অপুর সঙ্গে তুমি তো একদিন ট্রেন দেখতে চেয়েছিলে। মনে পড়ে?
কত বছর হয়ে গেল। আজ তুমি নেই। সবাই ভুলে গেছে। আমি ভুলতে পারি না। তোমার মুখটা খুব করে মনে পড়ে।
তুমি বেঁচে থাকলে আজ কি আমার এত কষ্ট হতো। আমরা দুজনে কলেজে ভর্তি হতাম। একসঙ্গে কলেজ যেতাম আসতাম। কী মজা হতো বলো! একসঙ্গে টিফিন ভাগ করে খেতাম। দুজনে ঝগড়া করতাম। অভিমান করে দূরে সরে থাকতাম। মনে মনে দুজন দুজনকে খুঁজতাম।
আজও নিশ্চিন্দিপুরের বাঁশবনে হাওয়া দিলে মনে হয় তুমি ডাকছ। কাশফুলের বনে তোমার শাড়ির আঁচল উড়ছে। শরতের নীলাকাশে তোমার ছবি ভেসে ওঠে। তুমি রয়ে গেছ আমার কিশোর বেলায় কিশলয় হয়ে, প্রথম প্রেম হয়ে।
অপু আজও অপেক্ষা করে আছে সেই রেললাইনের ধারে। একদিন ঠিক ট্রেন আসবে, তুমি জানালা দিয়ে হাত নাড়বে, বলবে — চল, অনেক দূর যেতে হবে।
হয়তো কোথাও কখনও অপর্ণার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে। তখন অপর্ণা বলবে — হাঁ করে দেখছ কী? আমি কি নতুন নাকি! কিন্তু আমার দুর্গা?
প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন।
ভালো থেকো ফেলুদা।
[ সুবল সরদার ]
Explore more opinions, analysis, and insights by Sujit Chatterjee .